চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি জ্ঞানদাস। তিনি চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন। চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাসের পদের মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য আছে। জ্ঞানদাস ছিলেন শিল্পী এবং চণ্ডীদাস ছিলেন সাধক। তিনি বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায় রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুইশ পদ রচনা করেন।
- আনুমানিক ১৫৬০ সালে বর্ধমান জেলার কাঁদড়া গ্রামে কবি জ্ঞানদাসের জন্ম।
- তিনি শ্রীমঙ্গল, মঙ্গল ঠাকুর বা মদনমঙ্গলা নামেও পরিচিত ছিলেন।
- তিনি নিত্যানন্দ শাখার একজন বৈষ্ণব ছিলেন। নিত্যানন্দ মারা গেলে তার স্ত্রী জাহ্নবী দেবীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
- তিনি জাহ্নবী দেবীর সাথে কাটোয়া ও খেতুরীর বৈষ্ণব কবিসম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। এখানে তিনি গোবিন্দ দাস ও বলরাম দাসের সাথে পরিচিত হয়েছেন।
জ্ঞানদাস রচিত দুটি বৈষ্ণব গীতিকাব্য 'মাথুর' ও মুরলীশিক্ষা'।
জ্ঞানদাস শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা, নৌকাবিলাস ও দানখণ্ড প্রভৃতি বিষয়ে কবিতা লিখতেন। পদ রচনার সময় তিনি রাখ কৃষ্ণের কিশোর-কিশোরী বয়সকে প্রাধান্য দিতেন।
বিখ্যাত পঙ্ক্তিঃ
- রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর ॥ - ‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।’
Content added By
Read more